WB :পশ্চিমবঙ্গের ‘অন্নপূর্ণা’ যোজনা কারা পাবেন ? কারা যোগ্য ? কারা পাবেন না ? ফ্রম ফিলাপ ? রইল বিস্তারিত
WB
লক্ষী শর্মা : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রিসভার প্রস্তাবিত ‘অন্নপূর্ণা’ প্রকল্পটি অনুমোদন করেছে, যার লক্ষ্য আগামী ১ জুন থেকে রাজ্যের মহিলাদের মাসিক ৩,০০০ টাকা সহায়তা প্রদান করা। তা সোমবারের দ্বিতীয় মন্ত্রীসভার বৈঠকে চুড়ান্ত করে পশ্চিমবঙ্গের নব মুখ্যমন্ত্রী সুভেন্দু আধিকারি।
আরো পড়ুন : CJP : ভারতে নতুন দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’, ২ দিনে ৭০ হাজার সদস্য ! ইতি মধ্যেই টিমসির ২ MP-র যোগ

অন্নপূর্ণা ভান্ডারের জন্য আবেদকারীদের জন্য কী কী নথি প্রয়োজন ?
১) আধার কার্ডের জেরক্স কপি
২) ভোটার কার্ডের জেরক্স কপি
৩) বিপিএল/ এএওয়াই/ পিএইচএইচ রেশন কার্ডের জেরক্স কপি
৪) ব্যাংকের পাশবুকের প্রথম পাতার জেরক্স কপি
৫) সম্প্রতি তোলা পাসপোর্ট মাপের একিটি কালার ছবি
৬ ) স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আয়ের শংসাপত্র
অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া এখনো চালু না হলেও চালু হলে কী ভাবে আবেদন করবেন :
ধাপ ১ : অফিসিয়াল পোর্টালে যান (যা এখনো ঘোষণা করা হয়নি)।
ধাপ ২ : ‘নতুন আবেদন’ বা ‘অনলাইনে আবেদন করুন’ অপশনটিতে ক্লিক করুন।
ধাপ ৩ : যাচাইকরণের জন্য আপনার মোবাইল নম্বর এবং প্রাপ্ত OTP প্রবেশ করান।
ধাপ ৪ : আবেদনপত্রটি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিবরণ দিয়ে পূরণ করুন।
ধাপ ৫ : প্রয়োজনীয় নথিগুলো আপলোড করুন।
ধাপ ৬ : ফর্মটি জমা দিন এবং আবেদন রেফারেন্স নম্বরটি লিখে রাখুন।
ধাপ ৭ : সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে যাচাই ও অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করুন।
অফলাইন আবেদন প্রক্রিয়া :
ধাপ ১ : পশ্চিমবঙ্গের নিকটতম সরকারি ক্যাম্প, ব্লক অফিস, পৌরসভা অফিস বা অন্যান্য নির্ধারিত পরিষেবা কেন্দ্রগুলিতে যান।
ধাপ ২ : পূরণকৃত ফর্মটি এবং স্ব-স্বাক্ষরিত নথিপত্র সংগ্রহ করে জমা দিন।
ধাপ ৩ : প্রাপ্তিস্বীকার রসিদটি গ্রহণ করুন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে যাচাইয়ের জন্য অপেক্ষা করুন।
অন্নপূর্ণা ভান্ডার আবেদনপত্র :
প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়ে গেলে, আবেদনপত্রটি প্রকল্পের অফিসিয়াল পোর্টালে পাওয়া যেতে পারে। এমনকি আপনি আবেদনপত্রের একটি মুদ্রিত কপি সংগ্রহ করার জন্য আপনার স্থানীয় ব্লক বা পৌরসভা কার্যালয়েও যেতে পারেন।
অন্নপূর্ণা ভান্ডার আবেদনপত্রের মাধ্যমে পরিবারের প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরো পড়ুন : Oil Price Hike : ফের উর্ধমুখী জ্বালানি ! মাত্র ৫ দিনে ফের দাম বাড়ল পেট্রোল ও ডিজেলের, কতটা বাড়ল দাম ?
পশ্চিমবঙ্গের অনুরূপ প্রকল্পগুলির উপর ভিত্তি করে, এতে নিম্নলিখিত বিবরণগুলি অন্তর্ভুক্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে :
১ ) আবেদনকারীর পুরো নাম।
২ ) জন্ম তারিখ ও বয়স।
৩ ) স্থায়ী ঠিকানা।
৪ ) আধার কার্ড নম্বর।
৫ ) রেশন কার্ড নম্বর।
৬ ) বার্ষিক পারিবারিক আয়।
৭ ) পরিবারের সদস্যদের বিবরণ।
৮ ) ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ।
৯ ) আবেদনকারীর স্বাক্ষর অথবা আঙুলের ছাপ।
কিভাবে অন্নপূর্ণা ভান্ডার আবেদন স্থিতি পরীক্ষা করবেন ?
অন্নপূর্ণা ভান্ডার আবেদনপত্রের অবস্থা যাচাই করার প্রত্যাশিত উপায়গুলো হলো :
👉🏿 অনলাইন : প্রকল্পের অফিসিয়াল পোর্টালে যান, ‘Track Application’-এ ক্লিক করুন এবং ‘Application Reference Number’ প্রবেশ করান।
👉🏿 অফলাইন : স্থানীয় ব্লক বা পৌরসভা কার্যালয়ে গিয়ে প্রাপ্তিস্বীকারপত্রটি জমা দিন।
নতুন ভাবে অনলাইনে আবেদন করার কোন প্রকার কোনও প্রেসেস চালু হয়নি এখনো। অর্থাৎ এখনো কোনও অনলাইন পোর্টল বা অফলাইনে ফ্রমফিলাপ শুরু হয়নি।
লক্ষীভান্ডার যারা পাচ্ছিলেন কাটছাট হবে অনেক এমনটাই জানানো হয়েছে বিজেপির তরফে :
বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে, লক্ষীর ভান্ডার যারা পাচ্ছিলেন তাঁরা পাবেন, তবে ভেরিফিকেশন হবে। কারন হিসেবে তাঁরা জানিয়েছে বহু ভুয়ো লোক পাচ্ছেন। যাদের পাওয়া উচিত তাঁরা পাচ্ছেন না।
আরো পড়ুন : Kolkata : এমন এক মূর্তি যার কনোও অর্থ নেই, যুবভারতীর বাইরে মমতার নকশা করা মূর্তি ভাঙার সিদ্ধান্ত নিল নিশীথ

রাজ্যের নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী কী জানালেন সংবাদ সম্মেলনে :
একটি সংবাদ সম্মেলনে রাজ্যের নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সাংবাদিকদের জানান যে, ১৮ই মে রাজ্য সচিবালয় নবান্নে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মহিলাদের জন্য অনুমোদন পাওয়া আরেকটি প্রকল্প হলো ১লা জুন থেকে সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত।
রাজ্য মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকের পর তিনি বলেন, “ ১ জুন থেকে মহিলাদের মাসিক ৩,০০০ টাকা সহায়তার ‘অন্নপূর্ণা’ প্রকল্পে মন্ত্রিসভা সম্মতি দিয়েছে । এছাড়াও, আগামী মাস থেকে সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়ার একটি প্রস্তাবেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।”
রাজ্য কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির জন্য সপ্তম রাজ্য বেতন কমিশন নিয়ে বিজেপি সরকার কোন পথে :
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজ্য কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির জন্য সপ্তম রাজ্য বেতন কমিশন গঠনের অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। পল আরও জানান যে, রাজ্য সরকার প্রতি ১৫ দিন অন্তর (পাক্ষিকভাবে) মন্ত্রিসভার বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রাজ্য সরকার ১৮ই মে নীতিগতভাবে তার সপ্তম রাজ্য বেতন কমিশন গঠনের অনুমোদনও দিয়েছে। এই কমিশন রাজ্য সরকারি কর্মচারী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি কর্পোরেশন ও বোর্ডের কর্মী এবং রাজ্য সরকার-সহায়তা প্রাপ্ত সংস্থাগুলির বেতন ও মহার্ঘ ভাতা ( ডিএ ) বৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু কবে তা জানানো হয়নি।
আরো পড়ুন : RSS : পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার দরজা খোলা রাখা উচিত ! RSS-এর মন্তব্যে অস্বস্তিতে কেন্দ্র
‘সপ্তম রাজ্য বেতন কমিশন’ কোন কোন সংস্থার ক্ষেত্র প্রজয্য ? বাস্তবায়নের তারিখ এখনো নির্দিষ্ট করেননি বিজেপি সরকার :
মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল বলেন, বেতন বৃদ্ধির এই আওতা পৌর সংস্থা, স্থানীয় সংস্থা, শিক্ষা বোর্ডের মতো সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবং রাষ্ট্রীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তিনি আরও বলেন, “কমিশনের গঠনতন্ত্রের বিস্তারিত যথাসময়ে বিজ্ঞাপিত করা হবে,” তবে তিনি এর বাস্তবায়নের তারিখ নির্দিষ্ট করেননি।
ডিএ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে মন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, বিষয়টি সোমবারের বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ছিল না বলেও জানান রাজ্যের নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের প্রাপকরা কী যগ্য ? এবং কারাই বা যোগ্য ? কী জানাচ্ছে শিশু ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী :
কারা যোগ্য ? রাজ্যের সকল যোগ্য মহিলা এই ঋণের জন্য নিবন্ধন করেছেন। “যারা পূর্ববর্তী সরকারের লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের অধীনে বর্তমানে সহায়তা পাচ্ছেন, তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। এর জন্য পুনরায় আবেদন করার প্রয়োজন নেই। সরাসরি ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে টাকা পাঠানো হবে ,” বলে অগ্নিমিত্রা পল জানান।
‘অন্নপূর্ণা’ প্রকল্পে নতুন আবেদনকারীরা কীভাবে নিবন্ধন করতে পারবেন ?
নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পলের মতে, যাঁরা এখনও আর্থিক সহায়তা পাননি, তাঁদের জন্য এই কর্মসূচিতে নতুন আবেদনের সুবিধার্থে রাজ্য সরকার শীঘ্রই একটি ওয়েব পোর্টাল চালু করবে।


বিগত প্রায় এক বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ায় কাজের সঙ্গে যুক্ত। রাজ্য ও কেন্দ্রের সরকারি ও বেসরকারি চাকরির প্রতিবেদন লিখতে পারদর্শী।
