Supreme court : খুন ও ধর্ষণের মামলায় আগামী শুনানিতে প্রধান বিচারপতির রিপোট তলব, টাস্ক ফোর্সের
Supreme court
তীর্থঙ্কর মুখার্জি : আরিজি কর কান্ডের তরুণী চিকিৎসক খুন ও ধর্ষণের মামলায় আজ প্রধাণ বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি মনোজ মিশ্র, বিচারপতি জে বি পর্দিওয়ালার বেঞ্চে মলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সিলিসটর জেনারেল তুষার মাহাতোকে প্রশ্ন করেন পরবর্তি শুনানির দিন ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্সের রিপোর্ট পাওয়া সম্ভব কিনা।
Table of Contents
প্রশ্নের উত্তরে ইন্দিরা জয়সিং জানান, ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্সে পশ্চিবঙ্গ থেকে কনো প্রতিনিধি এখানে উপস্থিত নেই। এরপরেই এই বিষয়ে ইমেল করে আবেদন জানানোর নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। এইদিকে আগামী শুক্রবার থেকে বন্ধ থাকছে সুপ্রিম কোর্ট। দশোরার ছুটির পর প্রথম সোমবার পরবর্তী শুনানি বলে জানিয়েদেন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।
এদিন খুন এবং ধর্ষণের ঘটনা পাশাপাশি আর্থিক দুর্নীতি দুটি বিষয়েই সিবিআই-এর স্টাটাস রিপোর্ট জমা দেয়। সেই স্টেটাস রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পর বিচারপতি উল্লেখ করে বলেন, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লিড উঠে এসেছে। সিবিআই তদন্ত চলবে।
রিপোর্ট কী বলছে ?
রিপোর্ট বলছে নির্যাতিতা চোখে চশমা এবং হাতে চুরি পড়েছিলেন, সেই কারনেই ক্ষত অনেকটাই বেশী হয়েছে। এরপরেই প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন, যখন ঘুমিয়ে ছিলেন তখন কী ভাবে এটা সম্ভব ? মৃত দেহ চশমা পরা অবস্থায় পাওয়া গেল কী করে ?
আরো পড়ুন : Medical expenses : মোদী জামানায় চিকিৎসা খরচ ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী, নাভিশ্বাস অবস্থা, কোথায় যাবে মধ্যবিত্তেরা ?
রাজ্যের আইনজীবী : উত্তরে রাজ্যের আইনজীবী বলেন, সিজারলিস্ট অনুযায়ী, জানা গিয়েছে চশমা ভাঙা অবস্থায় মৃতদেহের পাশে পড়ে ছিল।
প্রধান বিচারপতি : এদিন প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় রাজ্যকে প্রশ্ন করেন হাসপাতালের নিরাপত্তা পরিকাঠামোর কাজ এত ধীরগতিতে এগোচ্ছে কেন ?
রাজ্যের আইনজীবী : উত্তরে রাজ্যের আইনজীবী বলেন, হাসপাতালের নিরাপত্তা পরিকাঠামোর কাজ শেষ করতে আরো কিছুটা সময় লাগবে। অর্থাৎ সময় চেয়ে নেয় রাজ্যের আইনজীবী। পাশাপাশি তিনি জানান আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সব কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে। তবুও আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি ১৫ অক্টোবর এর মধ্যে সমস্ত বকেয়া কাজ শেষ করে ফেলার।
আইনজীবী করুণা নন্দী বলেন, যাদের নাম সিবিআই-এর পিটিশনে উল্লেখ রয়েছে, তারা অনেকেই ক্রাইম সিনে ছিলেন। এদের এখনো অনেকেই ক্ষমতায় রয়েছে। যতক্ষন পর্যন্ত তদন্ত শেষ না হচ্ছে তাঁদের সাসপেন্ড করা উচিৎ।
ইন্দিরা জয়সিং প্রধান বিচারপতির বেঞ্চকে জানান, জুনিয়র ডাক্তাররা ইতিমধ্যেই কাজে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা এখনও আরজিকরের পদমর্যদায় রয়েছেন। যতক্ষন টারা থাকবেন ততক্ষণ ভয়-ভীতি ত্যাগ করে কী ভাবে কাজ করবে ? তাঁদের সাসপেন্ড করার আবেদন জানাচ্ছি।
প্রধান বিচারপতি : আপনারা আমাদের জানান তারা কারা। যাদের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে ? এরপর রাজ্য সরকারকে তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে।
Is it possible to get the report of the National Task Force on the day of the
On this day, the lawyer question Rajnya-Pranthik’s short film in the Supreme Court
Supreme court- RG Kar Case
ইন্দিরা জয়সিং : ইন্দিরা জয়সিং এরপরেই বলেন, আমাদের কাছে নাম আছে, মুখবন্দধ খামে জমা দেব। এরপরেই ইন্দিরার সাওয়াল করেন, দেবাশিষ সোমকে কেন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না? দেবাশিষ সোম আরজি কর প্রিন্সিপালের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিল। ফরেন্সিক রিপোর্টে দেবাশিষ সোমের কথা বলা হয়েছে। তাঁকে একবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর তার প্যানিক অ্যাটাক হয়।
তুষার মাহাতো : হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে দেবাশিষ সোমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এর বেশি কিছু এখানে প্রকাশ্যে বর্ণনা করা যাবে না বলে আদলত কে জানান।

রাজ্যের আইনজীবী : এদিন সুপ্রিম কোর্টে রাজন্যা-প্রান্তিকের শর্ট ফিল্ম নিয়ে প্রশ্ন করেন আইনজীবী। তিনি বলেন, একটি ছবি প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে ইউটিউবে। যেহেতু মামলাটি স্পর্শকাতর এবং প্রাথমিক পর্যায়ে, এমত অবস্থায় কী ছবিটি প্রকাশ পাওয়া উচিৎ ?
প্রধান বিচারপতি : আপনারা যিদি কনও ফিল্মের রিলিজ আটকাতে চান তাহলে আইনি পথে পদক্ষেপ করুন। এদিনও আবারো নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ আরজি করের ঘটনা এবং নির্যাতিতার ছবি পরিচয় কোথাও ব্যবহার করা যাবে না।
ইন্দিরা জয়সিং : ইন্দিরা জয়সিং এদিন আদালতে নির্যাতিতার পরিবারের মুখবন্দধ খামের চিঠি জমা দেন। পাশাপাশি তিনি প্রধান বিচারপতির কাছে আর্জিf করেন, বিভিন্ন মাধ্যমে মাধ্যমে এখনও নির্যাতিতার ছবি ও নাম ব্যবহার করা হচ্ছে। বিষয়টি বন্ধ করার জন্য নোডাল অফিসার নিয়োগ করা এবং ইমেল আইডি চালু করার জন্য।

প্রধান বিচারপতি : এ কথা শোনার পর প্রধান বিচারপতি নির্দেশ দেন, একজন নোডাল অফিসার নিয়োগ করা হবে। তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের তরফে ওই অফিসার নিয়োগ করতে হবে।
অপরদিকে তরুণী চিকিৎসক খুন ও ধর্ষণের পর ২ মাস কাটতে চলছে। এই মামলায় এখনো পর্যন্ত এক সিভিক ভলেন্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই মামলাতেই তথ্য-প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। এখন দশোরার ছুটির পর প্রথম সোমবার পরবর্তী শুনানির জন্য অপেক্ষা।
