SIR Panic : তিন-চার পুরুষ ধরে থেকেও SIR আতঙ্কে কাটছে দিন, ২০০২-এর তালিকায় নাম নেই এই গ্রামের প্রায় ৩০০ জনের
SIR Panic
এসকে মোতাহার হোসেন : নাম নেই ২০০২ সালের সংশোধিত ভোটার তালিকায়। ২০০২-এর তালিকার আগের ও পরের তালিকায় নাম রয়েছে। সমস্যা শুধু এখানেই শেষ হচ্ছে না, অনেকের কাছেই প্রয়োজনীয় ১১টি নথি নেই। অথচ কেউ তিন-চার পুরুষ বা তারও বেশি সময় ধরে ভারতে বসবাস করছে।

নাম না থাকায় এসআইআরে ভোটাধিকার হারাণোর আশঙ্কায় ভুগছেন জয়নগর ২ ব্লকের গরদেওয়ানি পঞ্চায়েতের মোল্লার চক, বামনের চক, ঠাকুরের চক গ্রামের প্রায় ৩০০ বেশি বাসিন্দা।
সমাধানের আশায় প্রতিদিন রোজই সকাল থেকে কাগজপত্র হাতে এসআইআর সহয়তা শিবিরে পড়ে থাকছেন। কারও চোখে আবার জল বাঁধ মানছে না।
অভিযোগকারীরা বলেন, ২০০২ সালের সংশোধিত ভোটার তালিকায় নাম নেই কী করবো তা বুঝে উঠতে পারছি না আমরা। বেশ কয়েকবার ভোটও দিয়েছি। এক অভিযাগকারী বলেন, ১৯৯১ সাল থেকে আমার ভোটার লিস্টে নাম রয়েছে। ২০০২ সালে ভোট দিয়েও নাম নেই লিস্টে। বাবা মা অনেক আগেই মরে যাওয়ায় ২০০২ সালের লিস্টে নাম নেই বাবা মায়ের। একই সমস্যা বাকি অভিযোগকারীদেরও।
প্রশাসন আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন
প্রশাসন আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকলেও চিন্তার কারন নেই। কারন সেক্ষেত্রে কমিশনের তরফে উল্লেখ করা ১১টি নথির যে কনো একটি দেখালেই হবে। কমিশনের তরফে এউ জানানো হয়, শুনানির সময় যখন ডাকা হবে, তখন যে কোনও একটি নথি জমা দিলেই ভোটার তালিকায় নাম উঠে যাবে। সেখানে বাড়ি ও জমির দলিল গ্রাহ্য হবে বলেও জানান কমিশন।
আরো পড়ুন : Delhi Blast Breaking : ফের দিল্লিতে বিস্ফোরণ ! লালকেল্লার পর এবার কাঁপল বিমানবন্দরের র্যাডিসন হোটেলের কাছে
নির্বাচন কমিশনের বেধে দেওয়া ১১টি নথি কী কী ?
১) জমি অথবা বাড়ির দলিল।
২) রাজ্য সরকারের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দেওয়া বাসস্থানের সংশাপত্র।
৩) জাতিগত সংশাপত্র।
৪) মাধ্যমিক বা তাঁর অধিক কনোও শিক্ষাগত শংসাপত্র।
৫) স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া পারিবারিক রেজিস্টার।
৬) জন্ম শংসাপত্র।
৭) ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস, এলআইসি এবং স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া যে কনো নথি।
৮) পাসপোর্ট।
৯) কেন্দ্রীয় অথবা রাজ্য সরকারের কর্মী হিসেবে কাজ করছেন অথবা পেনশন পান এমন নথি।
১০) ফরেস্ট রাইট সার্টিফিকেট।
১১) কোনও নাগরিকের ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার।
এছাড়াও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক পরিচয়পত্র হিসেবে আধার কার্ড দেখানো যাবে।
জয়নগর ২ নম্বর ব্লকের এক তৃণমূল নেতা বলেন, বংশোপরম্পরায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা একটি অঞ্চলেই যদি ৩০০ জনের মতো ভোটার ২০০২ সালের সংশোধিত ভোটার তালিকায় নাম না থাকে তাহলে ২ নম্বর ব্লকে কয়েক হাজার ভোটার এমন রয়েছেন তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন।

