SIR All Updates : এসআইআর বংলায় প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে, আপনি কী জানেন,কী কী নথি লাগবে ? কাদের নাম বাদ যাবে ? সমস্যায় পড়ার আগে বিস্তারিত সব জেনেনিন
SIR All Updates
মুনাই ঘোষ : আগামী বছর রাজ্যে বিধানসভা ভোট। তার আগেই ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। বিহারের মতো এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা ধরেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন করতে চাইছে কমিশন।
আরো পড়ুন : Actor Satish’s death news : কিডনি বিকল হয়ে মৃত্যু হল বলিউড অভিনেতা সতীশ শাহের, রবিবার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে

ইতিমধ্যেই দিল্লিতে চলতি সপ্তাহে সারা দেশে এসআইআরের প্রস্তুতির দ্বিতীয় পর্যায়ের বৈঠক দু’দিন ধরে করেছে কমিশন। পশ্চিমবঙ্গের অনেকের মনেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে যে বিহারের এসআইআরের সঙ্গে বাংলার এসআইআরের কী পার্থক্য আছে ? নাকি একি ? কাদের নাম তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে ? কী কী নথি প্রয়োজন ? কারাইবা অবৈধ ভোটার ?
এসআইআর কী (SIR) ?
এসআইআর হল, ভোটার লিস্টে নতুন নাম নথিভুক্ত করার পাশাপাশি মৃত এবং অবৈধ ভোটারের নাম বাদ দিয়ে নতুন তালিকা প্রকাশ করা। কিন্তু কমিশনের দাবি, ভোটার তালিকায় নামা তোলা ও বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক ভুল হয়েছে তাই ওই প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ এবং নিবিড় নয়। এসআইআরের মাধ্যমে দু’টি বিষয় নিশ্চিত করা হবে- ১) কনো বৈধ ভোটারের নাম যেন বাদ না যায় , ২) একজনও অবৈধ ভোটার যেন ভোটার তালিকায় স্থান না পায় অর্থাৎ নাম না থাকে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় শেষ বার বিশেষ সংশোধন হয়েছিলো যা এবারের এসআইআর। ২০০২ সালের পর থেকে গোটা দেশে আর এই কাজ করেনি নির্বাচন কমিশন। অপরদিকে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ এসআইআরে বিজেপির ভাবনা কাজ করছে।
এসআইআরে কী কী নথি প্রয়োজন ? কী ভাবেই বা হচ্ছে এই প্রক্রিয়া ?
বিহারের এসআইআরের পদ্ধতি হিসেবে যদি পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর হয় তাহলে…..
১) প্রত্যেকের বাড়িতে ‘এনুমারেশন ফর্ম’ পৌঁছে দেবেন বুথ লেভেল অফিসেরেরা (BLO)। সেই সঙ্গে কমিশনের বেঁধে দেওয়া ১১টি নথি দিতে হবে। তবে কমিশন জানিয়েছে ওই ১১টি নথির মধ্যে যে কনো ১টি নথি এবং ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ‘বাবা অথবা মায়ের’ নাম রয়েছে প্রমাণ দিলেই সংশোধনি নতুন ভোটার তালিকায় নাম উঠে যাবে।
২) কমিশন সূত্রে খবর, দু-একটি পরিবর্তন ছাড়া বিহারের মতো পশ্চিমবঙ্গেও একি ভাবে এসআইআর হতে চলেছে।
কারা ‘এনুমারেশন ফর্ম’ পাবেন ?
এখনকার ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে, এমন সকলেই ‘এনুমারেশন ফর্ম’ পাবেন। প্রত্যেক ভোটারের ‘এনুমারেশন ফর্ম’ আলাদা। এই ফর্মে ভোটারের এপিক নম্বর, নাম , ঠিকানা , জন্ম তারিখ সহ ৯০ শতাংশ তথ্য ফর্মে ছাপা থাকবে। একজন ভোটার প্রতি দু’টি করে ‘এনুমারেশন ফর্ম’ ছাপাবে নির্বাচন কমিশন। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার সংখ্যা প্রায় ৭.৫ কোটির ওপর। দু’টি ‘এনুমারেশন ফর্ম’-এর মধ্যে একটি সংশ্লিষ্ট ভোটারের কাছে থাকবে অপরটি বিএলও নিয়ে যাবে।
নির্বাচন কমিশনের বেধে দেওয়া ১১টি নথি কী কী ?
১) জমি অথবা বাড়ির দলিল।
২) রাজ্য সরকারের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দেওয়া বাসস্থানের সংশাপত্র।
৩) জাতিগত সংশাপত্র।
৪) মাধ্যমিক বা তাঁর অধিক কনোও শিক্ষাগত শংসাপত্র।
৫) স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া পারিবারিক রেজিস্টার।
৬) জন্ম শংসাপত্র।
৭) ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস, এলআইসি এবং স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া যে কনো নথি।
৮) পাসপোর্ট।
৯) কেন্দ্রীয় অথবা রাজ্য সরকারের কর্মী হিসেবে কাজ করছেন অথবা পেনশন পান এমন নথি।
১০) ফরেস্ট রাইট সার্টিফিকেট।
১১) কোনও নাগরিকের ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার।
এছাড়াও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক পরিচয়পত্র হিসেবে আধার কার্ড দেখানো যাবে।
তবে কমিশন বলেছে আধার কার্ড দেখালেও ১১টি নথির যে কনো একটি দিতে হবে।
আরো পড়ুন : Child Death : মা সঙ্গাহীন, সারা শরীরে ক্ষত,রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার ৪ বছরের শিশুর,অভিযুক্ত দাদু কী জানালো পুলিশকে
এসআইআরে কাদের কনো নথি লাগবে না ?
কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ২০০২ সালের যাদের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে এমন ব্যক্তিদের কনো নথি দিতে হবে না। ২০০২ সালের তালিকা সংগ্রহ করে রেখে সেই তালিকা এবং ১১টি নথির মধ্যে যে কনো ১টি নথি দেখাতে পারলেই এবারের এসআইআরে নাম উঠে যাবে।
যাদের ভোটার তালিকায় নতুন নাম নথিভুক্ত হবে তাদের ক্ষেত্রে কী হবে ?
নতুন ভোটারদের ক্ষেত্রে যারা নতুন ভোটার যাদের ভোটার তালিকায় নাম তোলাতে হবে তারা ‘এনুমারেশন ফর্ম’ পাবেন না। তাঁদের কমিশনের ৬ নম্বর ফ্রমে আবেদন করে নাম নথিভুক্ত করতে হবে। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া আগের নিয়মেই নাম তোলা যাবে।
এসআইআরে যারা অংশ নেবেন না তাঁদের কী হবে ?
বিহারের পর পশ্চিমবঙ্গে ‘এসআইআর’ লাঘু হলে ‘এসআইআরে’ অংশগ্রহণ করলে ২০২৬ সালে নতুন ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন। কোনও ভোটার যদি ‘এসআইআরে’ অংশগ্রহণ না করে তাহলে নতুন ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ যাবে। সেইক্ষেত্রে আগামী বিধানসভায় ভোট দান করতে পারবে না।

আরো পড়ুন : Siliguri : দিঘার পর উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে ‘সবচেয়ে বড় শিবমূর্তি’ ! মহাকাল মন্দির নির্মাণের ঘোষণা মমতার

বিগত প্রায় এক বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ায় কাজের সঙ্গে যুক্ত। রাজ্য ও কেন্দ্রের সরকারি ও বেসরকারি চাকরির প্রতিবেদন লিখতে পারদর্শী।
