পিঙ্কি শর্মা : অর্থমন্ত্রীর মঙ্গলবার বাজেট পেশের পর আজ বুধবার সেই বাজেট নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মোদী সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ সানেন। এদিন বাজেট নিয়ে বলতে গিয়ে সংসদ কার্যত অভিষেকের গর্জনে কম্পিত হচ্ছিলো। এদিন তিনি কী বললেন দেখে নেওয়া যাক।
এদিন অভিষেক মোদী সরকারের উদ্দেশে বলেন, আপনি নড়বড়ে জোট সরকার নিয়ে চলছেন। আপনাদের বলবো ‘কুর্সিকা পেটি বাঁধ লিজিয়ে মৌসম বিগরনে বালা হ্যায়’। অর্থাৎ সিট বেল্ট বেঁধে নিন, আবহাওয়া খারাপ হতে চলেছে।
এই বাজেট বাংলা বিরোধী, জন বিরোধী। আমাদের দেশের মাথায় ১৬৯ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে। আর বাংলার ৬ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ হয়েছে জন্য আপনারা কটাক্ষ করছেন বাংলাকে।
এই সরকারের অন্যতম ব্যার্থতা হল ছাত্রদের বঞ্চনা। আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে ৮% ছাত্র। নিট পরিচালনায় ব্যার্থতার পর আমরা সংসদে আলচোনা চেয়ে ছিলাম। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে বিশেষ কিছু শোনা যায়নি। বর্তমানে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে ১২,০০০ বেশি পদ ফাঁকা।
মহিলাদের বঞ্চনা করেছে কেন্দ্রের এই বিজেপি সরকার। কারন মহিলা সংরক্ষণ বিল অনুযায়ী বিজেপির ২৪০ সাংসদের মধ্যে ৮০ জন মহিলা থাকা উচিত। কিন্তু তাঁদের মোট ৩১ জন মহিলা সাংসদ আছে। অথচ তৃণমূল কংগ্রেসে মহিলা সাংসদের সংখ্যা ৩৮ শতাংশ।
মহিলাদের বঞ্চনা করেছে কেন্দ্রের এই বিজেপি সরকার। কারন মহিলা সংরক্ষণ বিল অনুযায়ী বিজেপির ২৪০ সাংসদের মধ্যে ৮০ জন মহিলা থাকা উচিত। কিন্তু তাঁদের মোট ৩১ জন মহিলা সাংসদ আছে। অথচ তৃণমূল কংগ্রেসে মহিলা সাংসদের সংখ্যা ৩৮ শতাংশ।
বাংলায় নাড়িদের জন্য বাংলায় কন্যাশ্রী প্রকল্পে ৮৫ লক্ষ মেয়েরা উপকৃত হয়েছেন। এই কন্যাশ্রী প্রকল্পকে স্বীকৃতি দিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। এছাড়াও বাংলায় লক্ষী ভান্ডার প্রকল্প ২ কোটি ২০ লক্ষ মহিলাকে অর্থনৈতিক ভাবে সাবলম্বী করে তুলেছে।
মোদী সরকার বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও স্লোগান দিয়েছে। কিন্তু বেটি কো নৌকরি দিলাও বলতে ভুলে গেছে বিজেপি সরকার। শহরাঞ্চলে মহিলাদের মধ্যে বেকারত্বের হার ২২.৭ শতাংশ।
এই সরকার চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বছরে ২ কোটির। কিন্তু কিন্তু বাজেটে অর্থমন্ত্রী কর্মসংস্থানের ৫টি প্রকল্প এবং ৪ কোটি ১০ লক্ষ যুবকের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ২ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন। পূর্বের করা প্রতিশ্রুতির অর্থাৎ লক্ষপূরণের ধারে কাছে নেই এই সরকার। দেশের যুব সম্প্রদায় আর ফাঁপা প্রতিশ্রুতি চায় না। তাঁরা চায় চাকরি।
অভিষেক ছন্দ মিলিয়ে কটাক্ষ করে বলেন ‘মোদীজিকি তিসরিবার, দেশকে যুবা আভিভি বেরোজগার’।
আজ রাজ্যসভায় অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বাংলা নাকি কেন্দ্রের সহয়তার প্রকল্পগুলিকে বাস্তবায়িত করতে পারেনি। অভিষেক বলেন, আমি তাঁকে এই বিষিয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে বলেছি। ২০২১ সালে বাংলায় হারার পর কেন্দ্র কোন প্রকল্পে কতো টাকা দিয়েছে সেটা বলুন।
বাজেটে বেশ কয়েকটি রাজ্যে বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য অর্থমন্ত্রী অর্থ বরাদ্দ করেছেন। শুধু বঞ্চনা করা হয়েছে বাংলাকে।
বড়লোক প্রভাবশালীদের জন্য ঘর-বাড়ি তৈরির জন্য সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পে ২০ হাজার কোটি খরচ করেছে কেন্দ্র। অথচ শহর, গ্রামে যারা গৃহহীন তাঁদের জন্য আপনারা কী করেছেন ? উত্তর নেই আপনাদের কাছে।
সংসদে রয়েছে বৈচিত্রের অভাব। সংসদে সংখ্যালঘুদের আকাঙ্খা পূরণ করছে না বিজেপি। লোকসভা, রাজ্যসভায় বিজেপির একজনও মুসলিম সদস্য নেই। এখানেই বিজেপি সবকা সাথ সবকা বিকাশ এর মন্ত্র ভুলে , যো হামারে সাথ, হাম উনকে সাথ শুভেন্দুর মন্ত্র চলছে।
এদিন অভিষেক আক্রমন সেনে বলেন, মোদী সরকার গৃহবধু ,নাগরিক, কৃষক ও দিনমজুরের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। বেড়েছে জিনিসের দাম, পেঁজের দাম বেড়েছে ৪৩ শতাংশ। টমেটো ৪১ শতাংশ, আলু ৩৯ শতাংশ। এক বছরে ভেজ থালির দাম ৮ শতাংশ বেড়েছে। এলপিজি গ্যাসের দাম ২০২৩ বেড়ে হয়েছিল ১১০০ টাকা।
