WB : অন্নপূর্ণা যোজনার ১১ পাতার ফর্ম কি ভাবে ফিলাপ করবেন ? কী কী নথি ! জেনে নিন সব তথ্য এক ক্লিকে
WB
মুনাই ঘোষ : বুধবার মুখ্যমন্ত্রী সুভেন্দু আধিকারি নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে প্রকাশ করল অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম। মোট ১১ বা ১২ পাতার সেই ফর্মে আবেদনকারী এবং তাঁর পরিবারের সমস্ত ডিটেলস চাওয়া হয়েছে । মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, ১ জুন থেকে ৯০ দিন অর্থাৎ তিন মাস পর্যন্ত চলবে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ফর্ম ফিলাপ প্রক্রিয়া।

অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মটি দীর্ঘ হওয়ার কারন হিসেবে বলেন, এই ফর্মের মাধ্যমেই নাগরিকদের পরিবার সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সরকার সংগ্রহ করছে। তিনি এদিন আরো জানান, অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মটি অনলাইন ও অফলাইন দুই মাধ্যমেই ফর্মটি পূরণ করা যাবে। এমনকি তাঁদের সহয়তার জন্য সরকারি আধিকারিকরা বাড়ি বাড়ি ঘুরবেন।
শুভেন্দু আরো বলেন, এছাড়াও ১৫, ১৬ এবং ১৭ জুন বিজেপি এলকায় এলকায় জনকল্যাণ শিবির করবে। যাদের ফর্ম ফিলাপ করতে সমস্যায় পরবেন তাঁরাও সেখানে গিয়ে নি:শুল্ক সাহায্য পাবেন।
আরো পড়ুন : Kakali meets Suvendu : তিন বিধায়ক সহ সাংসদ কাকলি পৌছল শুভেন্দুর প্রশাসনিক বৈঠকে! বৈঠকে গিয়ে কী বলল কাকলি ?
অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্প, কারা মাসিক সহায়তা পাওয়ার যোগ্য ?
অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পের জন্য যোগ্য হতে হলে মহিলাদের বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে। এছাড়াও, এই প্রকল্পের আওতা থেকে আয়করদাতা এবং স্থায়ী সরকারি চাকরিতে নিযুক্ত ব্যক্তিরা বাদ। অতিরিক্তভাবে, রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা, স্থানীয় পৌরসভা, বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত বেতন বা পেনশন প্রাপ্ত ব্যক্তিরাও এই সাহায্যের জন্য অযোগ্য।
আরো পড়ুন : Howrah : পরনে হাফ প্যান্ট-স্যান্ড গেঞ্জি হাওড়ার ‘ডন’কে রাস্তায় ঘোরালো পুলিশ ! দেখলো জনতা ,কী বলছে পুলিশ ?
কেমন হয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনার ১১ পাতার ফর্ম ?
অন্নপূর্ণা যোজনার https://socialsecurity.wb.gov.in/login -এই- ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে যে পেজ খুলছে তাতে বাংলা ও ইংরাজি উভয় ভাষাতেই ফর্ম ডাউনলোড করার অপশন পাওয়া যাচ্ছে।
কী কী নথির প্রয়োজন অন্নপূর্ণা যোজনায় :
অন্নপূর্ণা যোজনার ১১ পাতার ফর্মে আবেদনকারী এবং তাঁর পরিবারের সকল সদস্যের খুঁটিনাটি চাওয়া হয়েছে। সেই শর্ত পূরণ করে ফর্ম ফিলাপ করলে তবেই মাসে ৩০০০ টাকা করে সরকারি আর্থিক সহয়তা পাবেন মহিলারা।
আরো পড়ুন : Weather Breking : ধেয় আসছে ভারী বর্ষণ, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃষ্টির সতর্কতা জারি,দেখে নিন
আবেদনকারীর পরিচয় এবং ঠিকানা সংক্রান্ত প্রমাণ যা যা লাগবে :
১) আধার কার্ড
২) ভোটার কার্ড
৩) রেশন কার্ড
আবেদনকারীর ছবি :
আবেদনকারীর সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ রঙিন ছবি ২ কই দিতে হবে।
ব্যাঙ্কের তথ্য :
ব্যাঙ্কের নথি হিসেবে যা দিতে হবে তা হল পাসবুকের অ্যাকাউন্ট নম্বর সহ আইএফএসসি কোড সহ পাসবুকের প্রথম পাতার কপি।
পরিবারের সদস্যের নথি :
পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরদের যা লাগবে তা হল আধার নম্বর, রেশনকার্ড নম্বর এবং ও বয়েসের বিবরণ। তবে পরিবারে ৫ বছরের নীচে কেউ থাকলে, তার আধার কার্ড নম্বর দিতে হবে না।
জমির নথি :
অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য জমির কাগজও লাগবে। আবেদনকারী বা তাঁর পরিবারের মালিকাধীন বাসস্থানের জমির দলিল বা খতিয়ানের তথ্য।
পরিবারের কী কী তথ্য দিতে হবে :
ফর্ম ফিলাপ করবার সময় অবশ্যই দিতে হবে বা জানাতে হবে বাড়িতে কেউ পেনশনভোগী রয়েছে কিনা, কেউ আয়কর দেন কিনা, এছাড়াও পরিবারের সব সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর দিতে হবে।
যানবাহন সংক্রান্ত তথ্য :
অন্নপূর্ণা ভান্ডারে ফর্মে যা উল্লেখ করতে হবে তা হল, আপনি কিংবা আপনার পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের যানবাহন সংক্রান্ত তথ্য। পরিবারে কারও কোনও স্বাস্থ্যবিমা থাকলে তা জানাতে হবে। এছাড়াও পরিবারে কোনও ছোট সদস্য থাকলে তার টিকাকরণের তথ্য জানাতে হবে।
শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ :
বাড়ির পড়ুয়া সদস্য থকলে তাঁরা সরকারি নাকি বেসরকারি, কোন স্কুলে পড়ে দিতে হবে সেই তথ্যও, পাশাপাশি উল্লেখ করতে হবে পারিবারিক বার্ষিক আয়ের উৎস।
জানাতে হবে খুটিনাটি তথ্য :
জানাতে হবে যে সকল খুটিনাটি তথ্য গুলি সেগুলি হল, কোনও সরকারি পরিষেবার আর্থিক সুবিধা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকছে কিনা। সমস্ত তথ্য আধিকারিকেরা খতিয়ে দেখার পরেই তবেই অ্যাকাউন্টে ঢুকবে প্রতি মাসে অন্নপূর্ণা যোজনার ৩০০০ টকা।
শুভেন্দুর ঘোষণা অনুযায়ী এক কথায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর তথ্য যাচাই করে দেখবে ,কারা এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য, কারা যোগ্য নন। এছাড়াও এসআইআরে যাঁদের নাম ওঠেনি , তাঁরা গোড়াতেই বাদ পড়বে।


বিগত প্রায় এক বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ায় কাজের সঙ্গে যুক্ত। রাজ্য ও কেন্দ্রের সরকারি ও বেসরকারি চাকরির প্রতিবেদন লিখতে পারদর্শী।
