WB :বঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের জন্য জেলায় জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ স্থাপনের নির্দেশ,কেমন হবে সেন্টার গুলো ?
WB
মুনাই ঘোষ : পশ্চিমবঙ্গে বেআইনিভাবে বসবাসকারী আটক বিদেশি নাগরিক এবং সাজা সম্পূর্ণ হওয়া ভিনদেশি বন্দিদের নিজ দেশে ফেরৎ পাঠানোর আগে পর্যন্ত সুরক্ষিতভাবে রাখার জন্য এবার কড়া পদক্ষেপ গ্রগণ করল পশচিবঙ্গ সরকার।
আরো পড়ুন : Live Updates : হোয়াইট হাউসের ভেতরে ট্রাম্প, বাইরে বন্দুকধারীর গোলাগুলি, চরম উত্তেজনা, নিজত ১,আহত ১ পথচারী

বঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকাকে মান্যতা দিয়ে পশচিবঙ্গের প্রতিটি জেলায় “হোল্ডিং সেন্টার” বা “আশ্রয়কেন্দ্র” স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসনকে।
শনিবার স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তর থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে, “এই দেশে অবৈধভাবে থাকার কারণে আটককৃত বাংলাদেশি/রোহিঙ্গাদের” নির্বাসন সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রক্রিয়া শুরু করতে কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের হোল্ডিং সেন্টারগুলো কেমন হবে ?
জানা গিয়েছে ,বিভিন্ন জেলায় থাকা কৃষক মান্ডি বা স্কুলগুলোতেই “হোল্ডিং সেন্টারের” ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আলাদা কোনও ঘেরাটোপ থাকবে না। তবে ,ওই সেন্টারে যাঁরা থাকবেন, তাঁরা বাইরে বিচরণ করতে পারবেন না।
কী ভাবে সনাক্তকরে ধরা হবে অনুপ্রবেশকারীদের :
সীমান্ত পারাপারের সময় (অবইধভাবে) কনো বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক তথ্য অর্থাৎ আঙুলের ছাপ ও মুখের ছবি সংগ্রহ করে সঙ্গে সঙ্গে ফেরত পাঠাতে হবে।
এই সংক্রান্ত তথ্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের Foreigners Identification Portal (FIP) -এ আপলোড করতে হবে।
কেন্দ্রের নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছিল, জেলায় জেলায় অবৈধ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের শনাক্ত ও প্রত্যার্পণের জন্য বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করতে হবে।
হোল্ডিং সেন্টারে থাকাকালীন যদি কেউ নিজেকে নাগরিক বলে দবি করে :
রাজ্যের কনো সেন্দেহভাজন ব্যক্তি যদি নিজেকে ভারতীয় নাগরিক বলে দাবি করেন, তবে সংশ্লিষ্ট রাজ্য বা জেলার কাছে যাচাইয়ের জন্য তথ্য পাঠাতে হবে।
পাঠানো তথ্য ৩০ দিনের মধ্যে যাচাই করে সেই তথ্য জমা দিতে হবে প্রশাসনের কাছে। সেই সময় পর্যন্ত ওই ব্যক্তিকে হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হবে।
আরো পড়ুন : Ebola Virus : ইবোলা ভাইরাসের আতঙ্ক ! স্থগিত হল ভারত ও আফ্রিকান ইউনিয়ন নয়াদিল্লি শীর্ষ সম্মেলন
তথ্য যাচাইয়ের পর অবৈধ প্রমাণিত হলে কী হবে জেনে নেওয়া যাক :
তথ্য যাচাইয়ে অবৈধ প্রমাণিত হলে ব্ল্যাকলিস্ট করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে পুণরায় ভারতে প্রবেশ করতে না পারে।
প্রত্যর্পিত ব্যক্তিদের তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করা হবে।
এই তথ্য দেওয়া হবে পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ,নির্বাচন কমিশন ,UIDAI ও অন্যান্য সরকারি সংস্থাকে , যাতে সংশ্লিষ্ট পরিচয়পত্র বা সরকারি সুবিধা বাতিল করা যায়।
আরো পড়ুন : Weather Breking : ধেয় আসছে ভারী বর্ষণ, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃষ্টির সতর্কতা জারি,দেখে নিন
আদেশে কী বলা হয়েছে :
আদেশে বলা হয়েছে, “উল্লেখিত MHA নির্দেশিকা অনুসারে, আটককৃত বিদেশিদের পাশাপাশি নির্বাসন/স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় থাকা মুক্তিপ্রাপ্ত বিদেশি বন্দীদের জন্য জেলায় “হোল্ডিং সেন্টার” স্থাপনের জন্য উদ্যোগ/উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অনুরোধ করা হচ্ছে।”
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুধবার জানিয়েছিলেন যে, রাজ্য সরকার “শনাক্ত করো, নির্মূল করো, নির্বাসন” নীতির অধীনে অবৈধ অভিবাসন ও অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের ( CAA) আইনগুলি বাস্তবায়ন করবে।
আরো পড়ুন : EPFO : হোয়াটসঅ্যাপেই জানাজাবে PF-এর সব তথ্য! শুধু ‘হ্যালো’ টাইপ করেই জানুন ব্যালেন্স, রইল বিস্তারিত
পূর্ববর্তী সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি নবান্ন থেকে বলেন শুভেন্দু :
“ভারত সরকার ২০২৫ সালের ১৪ই মে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে বাংলাদেশি অভিবাসীদের শনাক্ত করে নির্বাসনের জন্য বিএসএফের হাতে তুলে দিতে একটি আদেশ পাঠিয়েছিল। কিন্তু পূর্ববর্তী সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি,” বুধবার নবান্নে একথা বলেন শুভেন্দু।
রাজ্য সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পিটিআইকে জানিয়েছেন , কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী আটক ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে
আরো পড়ুন : CJP : ভারতে নতুন দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’, ২ দিনে ৭০ হাজার সদস্য ! ইতি মধ্যেই টিমসির ২ MP-র যোগ
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পিটিআইকে আরো জানান, “জেলাগুলোকে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করতে বলা হয়েছে, যাতে আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নির্বাসনের অপেক্ষায় থাকা বিদেশিদের একটি নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে রাখা যায়”।
আরেকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যোগ করেছেন, “এই আদেশটি পদ্ধতিগত এবং এর উদ্দেশ্য হলো জেলা প্রশাসন যেন নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী এ ধরনের মামলা মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত থাকে, তা নিশ্চিত করা,” পিটিআই জানিয়েছে ।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মতে, সিএএ-এর অধীনে যোগ্য যে ব্যক্তিরা ২০২৪ সালের ৩১শে ডিসেম্বরের আগে রাজ্যে প্রবেশ করেছেন, তাঁদের আইনি নাগরিকত্বের মর্যাদা দেওয়া হতে পারে।
একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টান এই সকল “অমুসলিম অভিবাসীরা যদি ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪-এর আগে বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্তান থেকে এসে থাকেন, তবে তাঁরা CAA-এর অধীনে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন”।


বিগত প্রায় এক বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ায় কাজের সঙ্গে যুক্ত। রাজ্য ও কেন্দ্রের সরকারি ও বেসরকারি চাকরির প্রতিবেদন লিখতে পারদর্শী।
