সহীদ মঞ্চ থেকে আগুন ঝরাল অভিষেক, বার্তা দিলেন নবিন-প্রবিন নিয়ে, কড়া বার্তা পৌরসভা ও পঞ্চায়েতকে

কেয়া সরকার : চব্বিশের শহীদের মঞ্চ থেকে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত দফায় দফায় বিজেপিকে কড়া আক্রমণ করলেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে নিট কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ। বিজেপির সাম্প্রদায়িক বিভাজনের প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, আমাদের একটাই ধর্ম মানব ধর্ম। “আমরা মানব সেবায় বিশ্বাস করি। আমরা ধর্ম বাড়িতে ঠাকুরের ঘরে বসে করি।

আমরা যখন জনগনের ভোটে নর্বাচিত তখন আমাদের কনো ধর্ম নেই।” এরপরেই তিনি বলেন, বিজেপি দলে সব মাতাল, দুর্নীতিগ্রস্থ, চোর-চিটিংবাজের ভিড়। আমার মনে হয় না কনোও ভদ্রলোক বিজেপি করে। ওরা জনগনের নয়, নরেন্দ্র মোদীর গর্জনে বিশ্বাস করেছিল। তাই তো এদের মানুষ বর্জন করেছে।

এদিন শহীদ মঞ্চ থেকে অভিষেক, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিজেপির পার্থক্য তুলে ধরে বলেন, নির্বাচনের দিন বিজেপি মদ খাওয়ানোর জন্য বাংলার আশি হাজার বুথে খরচ করেছে ৪০ কোটি টাকা। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় ৫৯ লক্ষ গরিব শ্রমিকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি একশো দিনের ৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা দিয়ে কথা রেখেছে। এটাই ওদের সঙ্গে পার্থক্য।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

দলের ভিতরেও ‘শুদ্ধিকরণে’ মন দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক তথা সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চ থেকে তিনি সাফ বললেন, “যাঁরা ভাবছেন আমরা আমাদের নির্বাচনে কাজ করবো, বাকি নির্বাচনে পার্টি বুঝে নেবে তাঁদের একটাই কথা বলব। এই যে এক দেড় মাস কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আমাকে দেখেননি। তাঁর কারণ আমি পর্যালোচনার কাজে ব্যস্ত ছিলাম। এর ফল আপনারা দেখবেন।

তৃণমূল কংগ্রেস লোকসভা ভোটে ২৯ আসনে বড় জয় পেলেও হেরেওছেন অনেক আসনে। আর সেই পরাজয়ের ময়নাতদন্তে দলের একটা বড় অংশের নেতা-কর্মীদের দোষ খুঁজে পেয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কারনেই হয়তো অভিষেক বলেছেন, যাঁরা, এই নির্বাচনে (লোকসভা ২৪) পঞ্চায়েত বা কাউন্সিলার বা চেয়ারম্যান বা ভাইস চেয়ারম্যান থেকেও মানুষকে বোঝাতে সফল হননি মানে ব্যার্থ হয়েছেন।

আমরা সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। কাউকে রেয়াত করা হবে না। আমি যে কথাগুলো বললাম, গ্রামে ফিরে সবাইকে বলবেন। পাশাপাশি এদিন শহীদের মঞ্চ থেকে ছাব্বিশের বিধানসভা উপনির্বাচনের রূপরেখাও তৈরি করে দিলেন অভিষেক।

Leave a Comment