নেই চাবি, ভাঙা হল মন্দিরের রত্ন ভান্ডারের তালা! ভল্টে সরানো হচ্ছে ‘শ্রী-রত্ন’ ! কী কী রহস্যইবা উন্মচন হল

সঞ্চিতা সাহা : কৌতহলের অবসান ঘুচিয়ে অবশেষে ৪৬ বছর পর পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের মন্দিরের রত্নভান্ডারের দরজা খুলল। রত্নভান্ডার খোলার আগে অবশ্য বিশেষ অনুষ্ঠান ‘আগ্নেয়’ পালন করে রত্নভান্ডার খোলার অনুমতি নেওয়া হয় জগন্নাথদেবের কাছে। গর্ভগৃহের উত্তরদিকের ঘর। ভিতরে দু’টি চেম্বড়। মোট সাতটি প্রকোষ্ঠ। রবিবার বেলা সাড়ে ১২টায় পুরীর মন্দিরের দিকে লাল-হলুদ রঙের ছ’টি সিন্দুক রওনা দেওয়া মাত্রই দেশের প্রত্যেক কোণায় পৌঁছে গেল অসীম উৎসাহ ও কৌতূহলের স্রোত।

রবিবার গোটা দিন দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ থাকলেও তা নিয়ে কনো প্রকার আক্ষেপ ছিলনা ভক্তদের। তাঁদের একটাই কথা তখন মুখে ভান্ডার দর্শন তো হবে। রত্নভান্ডার নিয়ে ওড়িশা সরকার ৩টি আচরণবিধি জারি করেছিল, প্রথমত রত্নভান্ডার খোলা নিয়ে। দ্বিতীয়ত রত্নভান্ডার সংরক্ষণে। তৃতীয়ত ভান্ডারের তালিকা তৈরির।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

সেগুলি মেনেই ওড়িশা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি বিশ্বনাথ রথের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল রত্নভান্ডারে প্রবেশ করে। দলের অন্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা হলেন, এসজেটিএ’র প্রধান প্রশাসক অরবিন্দ পাড়িয়া,এএসআইয়ের সুপারিন্টেনডেন্ট ডি বি গদানায়ক, পুরীর কালেক্টর এবং পূর্বতন রাজা ‘গজপতি মহারাজের’ একজন প্রতিনিধি।

এছাড়াও প্রবেশ করেছেন ৪ জন সেবায়েত। যেহেতু কথিত আছে এই রত্নভান্ডারের পাহাড়ার দায়িত্বে রয়েছে সর্পকুল। সেই কারনে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সর্প বিশেষজ্ঞদের ২টি টিম নিয়ে প্রবেশ করে। বিকেল ৫.২০ মিনিটে মন্দির থেকে বেরিয়ে আসে দলট

Image Source : ANI

বেরিয়ে এসে অরবিন্দ পাধি জানায়, এদিন শুধু বাইরের চেম্বারের রত্ন সংরক্ষণ করা হয়েছে। এবং প্রত্যেক পদক্ষেপের ভিডিওগ্রাফি করা হচ্ছে। সেখানে কী কী পাওয়া গেল এই প্রশ্নের জবাবে অরবিন্দ পাধি বলেন, জগন্নাথদেবের ১টি সোনার মুকুট এবং ৩টি সোনার হরিদকন্ঠী মালা। প্রত্যেকটি তৈরী হয়েছে ১ হাজার ৪০০ গ্রাম সোনা দিয়ে।

জগন্নাথদেবে এবং বলভদ্রের সোনার শ্রীভুজ বা হাত এবং শ্রীপায়ার বা পা’ও রয়েছে। তিনি আরো বলেন, ভিতরের প্রকোষ্ঠের চাবি না থাকায় তিনটি তালা ভাঙা হয়েছে। দরজা খোলার পর সাপের দেখা না মিললেও বেরিয়ে আসে ঝাঁকে ঝাঁকে বাদুড়। জগন্নাথ দেবের অলঙ্কার তৈরির জন্য প্রায় দেড় হাজার কেজি সোনা দিয়েছিলেন ওড়িশার রাজা অনঙ্গভীম দেব।

Leave a Comment